জুয়া আসক্তি কি mental disorder হিসেবে স্বীকৃত?

হ্যাঁ, জুয়া আসক্তি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মানসিক রোগ বা মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বা International Classification of Diseases (ICD-11)-এ একে “জুয়া খেলার ব্যাধি” (Gambling Disorder) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। একইভাবে, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন তাদের ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স (DSM-5)-এ এটিকে একটি আসক্তি ও আচরণগত ব্যাধি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মানে হল এটি কেবল দুর্বল ইচ্ছাশক্তি বা নৈতিকতার সমস্যা নয়, বরং একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থা যা মস্তিষ্কের পুরস্কার প্রক্রিয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

জুয়া আসক্তির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি: মস্তিষ্কে কী ঘটে?

জুয়া আসক্তিকে বোঝার জন্য মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বোঝা জরুরি। যখন কেউ জুয়া খেলে, বিশেষ করে অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাব্য বড় পুরস্কারের মুহূর্তে (যেমন স্লট মেশিনে জ্যাকপটের চিত্রগুলো মিলে যাওয়ার সময়), মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (ভিটিএ) এবং নিউক্লিয়াস অ্যাকাম্বেন্স-এর মতো অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরণ ঘটায়। ডোপামিনকে “আনন্দের রাসায়নিক” বলা হয়, যা তৃপ্তি ও পুরস্কারের অনুভূতি দেয়। সমস্যা হয় যখন মস্তিষ্ক বারবার এই ডোপামিন বৃদ্ধির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। তখন আগের মতো একই পরিমাণ আনন্দ পেতে আরও বেশি বা ঘন ঘন জুয়া খেলার প্রয়োজন পড়ে – ঠিক মাদকাসক্তির মতোই একটি সহনশীলতা (Tolerance) তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জুয়াড়িদের মস্তিষ্কের স্ক্যানে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকলাপে পরিবর্তন দেখা যায়, যা বিচার-বিবেচনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতের পরিণতি বিবেচনা করার ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।

রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ড: কখন এটিকে “আসক্তি” বলে?

প্রতিটি মানুষই মাঝে মাঝে জুয়া খেলতে পারে, কিন্তু সেটি আসক্তিতে পরিণত হয়েছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য ডিএসএম-৫ কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড দিয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে নিচের ৯টি লক্ষ্যের মধ্যে কমপক্ষে ৪টি থাকলে তা জুয়া আসক্তি নির্দেশ করতে পারে:

  • জুয়া খেলার তাগিদ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা: বারবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জুয়া খেলা কমাতে বা বন্ধ করতে না পারা।
  • উদ্বেগ ও অস্থিরতা: জুয়া খেলা বন্ধ করলে বা কমালে বিচলিত, উদ্বিগ্ন বা বিরক্ত বোধ করা।
  • সহনশীলতা বৃদ্ধি: আগের মতো উত্তেজনা পেতে আরও বেশি অর্থের বাজি ধরতে হবে এমন অনুভূতি।
  • প্রত্যাহার লক্ষণ: জুয়া না খেললে মন খারাপ, নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যথা ইত্যাদি শারীরিক বা মানসিক লক্ষণ দেখা দেওয়া।
  • পলায়নমূলক আচরণ: হতাশা, অপরাধবোধ বা জীবনের সমস্যাগুলো থেকে পালানোর জন্য জুয়া খেলা।
  • “চেজিং” বা লোকসান পুষিয়ে নেওয়া: জুয়ায় হারানো টাকা ফেরত পেতে আবারও জুয়া খেলার প্রবল ইচ্ছা।
  • গোপনীয়তা: পরিবার, বন্ধু বা চিকিৎসককে নিজের জুয়া খেলার মাত্রা সম্পর্কে মিথ্যা বলা বা গোপন করা।
  • সম্পর্ক ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি: কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্ক নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও জুয়া খেলা চালিয়ে যাওয়া।
  • অর্থনৈতিক সংকট: আর্থিক সংকটে পড়া সত্ত্বেও জুয়া খেলার জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া।

জুয়া আসক্তির প্রভাব: শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রার উপর

জুয়া আসক্তির প্রভাব শুধু ব্যাংক ব্যালেন্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।

মানসিক স্বাস্থ্য: জুয়া আসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গবেষণা অনুযায়ী, ৯৬% এরও বেশি কোনো না কোনো সহবর্তমান মানসিক রোগে ভোগেন। সবচেয়ে সাধারণ হল বিষণ্নতা (Depression), যা প্রায় ৭৫% ক্ষেত্রে থাকে। এর পাশাপাশি মারাত্মক উদ্বেগ disorder, দ্বিধাবিভক্ত ব্যক্তিত্ব (Bipolar Disorder), এবং মাদকাসক্তিও খুবই সাধারণ। আত্মহত্যার চিন্তা ও আত্মহত্যার ঝুঁকি সাধারণ জনগণের চেয়ে জুয়া আসক্তদের মধ্যে ১৫ গুণ বেশি।

শারীরিক স্বাস্থ্য: ক্রমাগত চাপ ও উদ্বেগের কারণে এই ব্যক্তিরা নানান শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। এর মধ্যে includes পেপটিক আলসার, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথা এবং অনিদ্রা最为普遍। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস ইমিউন সিস্টেমকেও দুর্বল করে দেয়, ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন।

পারিবারিক ও সামাজিক জীবন: জুয়া আসক্তি পারিবারিক সম্পর্কের ওপর ভয়ানক প্রভাব ফেলে। বিশ্বস্ততার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং অবহেলার কারণে দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ甚至 বিবাহবিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। সন্তানরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিতামাতার সাথে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। অনেক আসক্ত ব্যক্তি লজ্জা ও অপরাধবোধের কারণে সামাজিকভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেন, যা একাকিত্বকে আরও তীব্র করে।

আর্থিক ও পেশাগত পরিণতি: এটি একটি সুস্পষ্ট কিন্তু মারাত্মক পরিণতি। ব্যক্তিরা তাদের সঞ্চয়, সম্পদ甚至 বাসস্থানও হারাতে পারেন। ঋণের বোঝা বেড়ে যায়, যা মোকাবেলা করতে গিয়ে অনেকে অসৎ পথ甚至 illegality-র দিকেও ঝুঁকতে পারেন। কাজে অনিয়ম, মনোযোগের অভাব এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে চাকরি হারানোও একটি সাধারণ ঘটনা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: জুয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে জুয়া আসক্তিকে একটি সামাজিক কুপ্রথা বা নৈতিক পতন হিসেবে দেখা হয়, একটি চিকিৎসাগত অবস্থা হিসেবে নয়। এই stigma বা কলঙ্ক আসক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সাহায্য চাইতে বাধা দেয়। যদিও বাংলাদেশে জুয়া illegal, তবুও underground জুয়া, বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়া কার্যক্রম চলমান আছে। সরকারি মনোরোগ হাসপাতাল ও কিছু বেসরকারি ক্লিনিকে আসক্তি চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও, জুয়া আসক্তির জন্য নির্দিষ্টভাবে উৎসর্গীকৃত rehabilitation center-এর সংখ্যা নগণ্য। এখানে আসক্তি চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারেরও অভাব রয়েছে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: আশার আলো

ভালো খবর হল, জুয়া আসক্তি চিকিৎসাযোগ্য। সঠিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারেন। চিকিৎসা সাধারণত একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে হয়:

সাইকোথেরাপি: এটি চিকিৎসার মূল ভিত্তি।

  • জ্ঞানীয়-আচরণগত থেরাপি (CBT): এটি সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। এটি জুয়া খেলার পেছনের নেতিবাচক চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এটি জুয়া খেলার তাগিদ মোকাবেলার কৌশলও শেখায়।
  • মোটিভেশনাল ইন্টারভিউিং (MI): এটি ব্যক্তির নিজের পরিবর্তনের ইচ্ছাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী: গাম্বলার্স অ্যানোনিমাস (Gamblers Anonymous) নামক ১২-ধাপের প্রোগ্রাম বিশ্বব্যাপী জুয়া আসক্তদের জন্য একটি শক্তিশালী support system গড়ে তুলেছে। এখানে একই রকম সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং একে অপরকে উৎসাহিত করেন।

ওষুধ:在某些情况下,如果伴随有严重的抑郁或焦虑,医生可能会开具选择性血清素再摄取抑制剂 (SSRI) 等抗抑郁药或情绪稳定剂。这些药物可以解决导致赌博行为的潜在化学失衡问题。

পরিবারের ভূমিকা: পরিবারের সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা Gam-Anon-এর মতো গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে বুঝতে পারেন কিভাবে তারা তাদের প্রিয়জনকে সাহায্য করতে পারেন এবং নিজেরাও মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে পারেন।

প্রতিরোধ: সচেতনতা是关键

জুয়া আসক্তি প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল সচেতনতা। বিনোদনের জন্য জুয়া খেলার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত:

  • সীমা নির্ধারণ: খেলার আগেই ঠিক করে নেওয়া যে কত টাকা খরচ করা acceptable এবং সময়সীমা কত। এই সীমা কোনো অবস্থাতেই অতিক্রম না করা।
  • টাকাকে বিনিয়োগ না ভাবা: জুয়ায় খরচ করা টাকাকে always বিনোদন খরচ হিসেবে দেখা উচিত, like সিনেমা দেখতে যাওয়া। এই টাকা ফেরত পাওয়ার expectation না রাখা।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলা: জুয়া খেলার সময় alcohol সেবন বিচার-বিবেচনা的能力 কমিয়ে দেয় এবং impulsive decision-কে উৎসাহিত করে।
  • নিয়মিত বিরতি নেওয়া: টানা অনেকক্ষণ ধরে জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকা।

জুয়া আসক্তি একটি গুরুতর但可治疗的疾病。认识到它是一种疾病,而不是道德败坏,是寻求帮助的第一步。如果您或您认识的人可能正在与此问题作斗争,请联系心理健康专家、医生或 Gamblers Anonymous 等支持小组。康复是可能的。

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Scroll to Top